বাংলাদেশের নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এক ডজনেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তাদের দক্ষতার পরীক্ষা নিচ্ছে।
১. নিরপেক্ষতা বজায় রাখা: রাজনৈতিক অঙ্গনে আস্থা পুনঃস্থাপন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
২. স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের চাপ মোকাবিলা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
৩. সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়ন: ভোটার তালিকায় ভুল এবং অনিয়ম দূর করা।
৪. ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম): ইভিএম ব্যবহারে জনমত ও আস্থা নিশ্চিত করা।
৫. বিতর্ক এড়ানো: কমিশনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
৬. বিরোধী দলের অংশগ্রহণ: জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৭. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা।
৮. নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবিলা: সহিংসতার শিকার জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
৯. প্রযুক্তির ব্যবহার: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল প্রকাশ।
১০. জনগণের আস্থা অর্জন: দেশের মানুষের কাছে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা।
১১. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ: আন্তর্জাতিক মহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা দেওয়া।
১২. স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি: নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করা।
নতুন ইসির জন্য প্রতিটি চ্যালেঞ্জই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে তারা আস্থা অর্জনে সফল হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
এ বিষয়ে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক- সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতাসীন সরকার। ক্ষমতাসীন সরকার যদি নির্বাচকে প্রভাবিত করতে চায়, তাহলে আর কিছুই তাদের (ইসির) করার থাকে না। ওটাই তাদের করতে হয়। কিন্তু এখন তো ক্ষমতাসীন সরকার চাইবে একটা সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন; সেই দিক থেকে নতুন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জটাই নেই। তিনি বলেন, তবুও ইসির কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। এর মধ্যে হচ্ছে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা; সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ; ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা; প্রশাসনিক দক্ষতা তথা সেখানে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ হয়েছে। দলীয়করণ মুক্ত করাটাই বড় সমস্যা।

0 Comments